নগর জীবনের যান্ত্রিক কোলাহল, শব্দ ও বায়ু দূষণ এবং সর্বোপরি কর্মজীবনের ব্যস্ততার মাঝে সপ্তাহ শেষে আমাদের অবচেতন মন যখন একটু নিরবিচ্ছিন্ন শান্তি ও সুখ পেতে চায়, তখন আপনি এমন কোন জায়গা বা নিরব পরিবেশ বা স্পট বেছে নেবেন যেখানে দুই একদিন নিরাপদ নিরবচ্ছিন্ন প্রকৃতির স্বাদ উপভোগ করা যায়। পদ্মা রিসোর্ট আপনার সে বাসনা পূরণ করতে পারে।
ঢাকা থেকে মাত্র ৫০ কি.মি. দূরে (১ ঘন্টা ১৫ মি. গাড়ি দূরত্ব) মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলা, লোহজং থানার নদীর অপরপাশে মসজিদ ঘাটে এসে দাঁড়ালেই পাবেন মনোমুগ্ধকর পদ্মা রিসোর্ট। নদীর ওপারেই বিশাল বিস্তৃত চর, প্রকৃতির এক অপার সৌন্দর্য নিয়ে চরটি দীর্ঘকাল ধরে পদ্মার বুক জুড়ে দাঁড়িয়ে আছে, ঠিক যেন সেন্টমার্টিন দ্বীপ জেগে আছে। সেখানে গিয়ে আপনি দেখতে পাবেন মসজিদ ঘাটেই অপেক্ষা করছে আপনার জন্য ২-৩টি ইঞ্জিন চালিত বোট ও স্পিডবোর্ট।
এগুলো আপনাকে পৌঁছে দিবে ওপারে পদ্মা রিসোর্ট, সেখানে কেউ না কেউ আপনাকে স্বাগত জানাবে। রিসোর্ট যাওয়ার আগে অবশ্যই আপনি বুকিং দেওয়া কনফার্ম করে যাবেন, পদ্মা রিসোর্টের চৌকস কর্মীবৃন্দ আপনাকে নিয়ে যাবে আপনার বুকিং রুমে, রুমে ঢুকেই নিচ তলায় দেখতে পাবেন এক সেট সোফা ও টেবিল সজ্জিত লিভিং রুম, দেড় তলায় অত্যাধুনিক ফিটিংসহ (কমোড, বেসিন, লুকিং গ্লাস, টেলিফোন, শাওয়ার) ইত্যাদি দিয়ে তৈরি বাথরুম, ২য় তলায় উঠে দেখবেন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ২টি সু-সজ্জিত সিঙ্গেল বেড, মধ্যখানে সেন্টার টেবিল, ওয়ারড্রোব, লাইট, ফ্যান ইত্যাদি। রিসোর্টটি চারিদিকে পদ্মা নদী প্রবাহিত হওয়ার সার্বক্ষণিক মৃদুমন্দ ঠান্ডা বাতাস বিরাজ করে, যাতে করে আপনার এসির কথা হয়তো মনেই হবে না।
রুমে উঠেই হাত মুখ ধুয়ে খাওয়ার কথা মনে হতে পারে। চিন্তা নেই, পদ্মা রিসোর্টের সু-সজ্জিত রেস্টুরেন্ট যা ২০টি টেবিল চেয়ার দিয়ে সাজানো সেখানে আপনি ২০০ জন লোক নিয়ে লাঞ্চ বা ডিনারসহ যেকোন পার্টি আয়োজন করতে পারেন।
রিসোর্টের ফুড মেন্যু দেখে, ৩-৪ জনের জন্য ১টি টেবিল বুক করতে পারেন। জনপ্রতি লাঞ্চ বা ডিনারের মূল্য হবে ৩০০ টাকা এবং রাত্রি যাপন করতে গেলে একটি রুমের ভাড়া পড়বে ৩০০০ টাকা।
এখান থেকেই শুরু আপনার আনন্দ ও উল্লাস, আপনি ইচ্ছে করলে এই বালুচরে করতে পারেন পিকনিক ইচ্ছে করলে নিজেরা রান্না করতে পারেন, ছেলে-মেয়েরা মিলে খেলতে পারেন, ভলিবল, বাস্কেটবল, ব্যাডমিন্টন, ফুটবল, কাবাডি ইত্যাদি। ভয় নেই পড়ে গেলে মোটেই ব্যথা পাবেন না, কারণ চরজুড়ে শুধু বালু আর বালু।
আপনি ইচ্ছা করলেই বর্তমানে শান্ত নদীতে গোসল করতে পারেন, ধরতে পারেন ছিপ দিয়ে মাছ। একটু দূরে যেতে চাইলে দেখতে পারবেন চরাঞ্চলের গ্রাম জীবন, পুরো চরজুড়ে চোখে পড়বে সবুজ আলুর তে ইত্যাদি। বিকালে বালুচরে ইজিচেয়ার বা দোলনা চেয়ারে বসে দেখতে পারেন সূর্যাস্ত বা ভোরের সূর্যোদয়।
রাতে করতে পারেন ক্যাম্প ফায়ার ও বারবিকিউ। ইচ্ছে করলেই চড়তে পারেন ঘোড়ার পিঠে, এয়ারবোর্টে ঘুরতে পারেন পদ্মার আশ-পাশ। এসব রাইড বা আনন্দের ক্ষেত্রে রিসোর্টের নিজস্ব চার্জ দিয়ে আপনি উপভোগ করতে পারেন নিরবচ্ছিন্ন আনন্দ, ভাগাভাগি করে নিতে পারেন নিজ নিজ পরিবার, বন্ধু-বান্ধব বা অফিস সহকর্মীদের সাথে।
লোকেশন
0 comments:
Post a Comment